জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে গতিশীলতা ও চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম চাঙ্গা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ন্যাশনাল।
ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রতিবেদনের সহলেখক কেন মিয়াজিমা বলেন, ‘গালফ অঞ্চল সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে সফলভাবে সামাল দিয়েছে। এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখনো বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে মধ্যমেয়াদি কিছুটা ঝুঁকি রয়ে গেছে।’
সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সংস্কার ও অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টার কারণে গালফ অঞ্চলের তেল-গ্যাসবহির্ভূত খাতগুলো সমৃদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল উত্তোলন ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে হাইড্রোকার্বন খাতেও প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।
অক্টোবরে প্রকাশিত আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গালফ অঞ্চলের অর্থনীতি চলতি বছর গড়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে। আগামী বছর এটি ৪ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অর্থনীতি চলতি বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং সৌদি আরব ও কাতারের অর্থনীতি আগামী বছর যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ১ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনের ৩ দশমিক ২, কুয়েতের ৩ দশমিক ৩ ও ওমানের জিডিপি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েলের সঙ্গে গালফ অঞ্চলের বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক সীমিত। গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গালফ অঞ্চলের অর্থনীতি তেমন প্রভাবিত হয়নি। এমনকি লোহিত সাগরের উত্তেজনা সত্ত্বেও জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন নেতিবাচক প্রভাবের বাইরে ছিল।
কেন মিয়াজিমা বলেন, ‘আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর সীমিত রয়েছে। বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ প্রবাহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত রয়েছে।’
তবে তিনি বলেন, ‘দেশগুলোর উচিত স্বল্পমেয়াদে সতর্ক আর্থিক নীতি গ্রহণ করা। ডলারের বিপরীতে দেশগুলোর মুদ্রার স্থির বিনিময় হারের সঙ্গে সংগতি রেখে মুদ্রানীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া আর্থিক খাতের আকস্মিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেও প্রস্তুত থাকা দরকার।’
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যমেয়াদে তেল-গ্যাসবহির্ভূত খাতে রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা প্রয়োজন। এটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা ও উন্নয়নমূলক বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।
ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গালফ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই গবেষণা ও উন্নয়নে নেতৃত্বদান করতে যাচ্ছে ইউএই। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে এআই ভূমিকা রাখতে পারে। সৌদি আরবের জিডিপিতে প্রায় ১২ শতাংশ অবদান রাখবে এ প্রযুক্তি।
তবে এআই ব্যবহারের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান এআইর কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ কারণে শ্রমবাজারে দক্ষতা উন্নয়ন এবং এআই ব্যবহারে নৈতিক ও দায়িত্বশীল নীতিমালা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এআইর ইতিবাচক দিকগুলো নেতিবাচক প্রভাবকে ছাড়িয়ে যাবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।